Next Narayanganj

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬
শনিবার- ১২, সেপ্টে, ২০২৬

গাজায় নীরব স্বাস্থ্য বিপর্যয়, চিকিৎসাসেবা এখনো ধ্বংসস্তূপে

admin@nextnarayanganj.com
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
2 Min Read
বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছবি- সংগৃহীত।

গাজায় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংসের খবর আগের তুলনায় কম আলোচনায় এলেও সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতি শিবিরগুলোতে চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশনের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

গাজা সিটির নাসর এলাকায় হাসান সালামা স্কুলের ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী শিবিরে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। শিবিরটির জন্য কোনো নিয়মিত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা নেই। সম্প্রতি স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসাকর্মীরা সেখানে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালালে একদিনেই অন্তত ১৫০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের কাছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের পাশাপাশি হেপাটাইটিস ও স্ক্যাবিসের মতো সংক্রমণও ধরা পড়ে। শিশুদের মধ্যে জলবসন্ত, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা গেছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ পথ, যাতায়াতের খরচ, বাস্তুচ্যুতির ক্লান্তি এবং তীব্র আবহাওয়ার কারণে অনেকে অসুস্থ হলেও চিকিৎসা নিতে পারছেন না। সীমিত আয় ও খাদ্যসংকটের মধ্যে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করাও অনেক পরিবারের পক্ষে কঠিন।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থা বোঝাতে পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। গাজার ৩৪টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার শয্যা রয়েছে আনুমানিক ২ হাজার ২০০টি। অথচ যুদ্ধের আগে শুধু আল-শিফা হাসপাতালেই ৭০০ শয্যা ছিল।

চিকিৎসাসেবা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি। অনেক হাসপাতালের ওয়ার্ড ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাকর্মীর সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গাজায় যুদ্ধের আগে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর ২২টি ক্লিনিক ছিল। বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র ছয়টি সচল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতাল পুনর্নির্মাণ করলেই গাজার স্বাস্থ্যসংকট কাটবে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসকারী ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

সূত্র: আল জাজিরা

Share This Article