বিএনপি গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন থেকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ‘দলঘনিষ্ঠদের’ বিষয়েও পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। পরদিনই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এ দুটি বিষয় তুলেছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা’ বলতে কী চাইছে এবং ‘দলঘনিষ্ঠ’ উপদেষ্টা আখ্যা দিয়ে কাদের সরাতে চাইছে—গতকালের বৈঠকে এনসিপি নেতারা সেটা জানা-বোঝার চেষ্টা করেছেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে এনসিপির নেতাদের কাছে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা চেয়েছে।
তবে এনসিপি মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার গণ-অভ্যুত্থানের সরকার। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ে তাদের ম্যান্ডেট। হঠাৎ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার পরামর্শটি দুরভিসন্ধিমূলক। নিজেদের এই মনোভাবের কথা এনসিপির নেতারা বৈঠকে তুলে ধরেন।
এ কথা উল্লেখ করে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে তাঁরা বিচার, জুলাই সনদ ও নির্বাচনের রোডম্যাপও (পথনকশা) চেয়েছেন। বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের হুমকি, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার—এসব বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দলঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার যে দাবি বিএনপির দিক থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে, এনসিপি নেতাদের অনেকের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপি দুই ছাত্র উপদেষ্টা নয়; অন্য একজন উপদেষ্টার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছে।
গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার পুনর্গঠন করার প্রয়োজন হলে সেটা যেন ন্যায্য ও যৌক্তিকভাবে করা হয়, সেটি প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছে এনসিপি। এ ছাড়া কাউকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে শুধু ছাত্র উপদেষ্টা নন, বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী যেসব উপদেষ্টা সরকারে আছেন, তাঁদেরও যেন বাদ দেওয়া হয়, সে কথাও এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে এনসিপির নেতাদের মধ্যে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও অংশ নেন। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ছাড়াও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ছিলেন।

