নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মিশুকচালক ওয়ালি উল্লাহ (২০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মুঠোফোন ও ছিনতাই হওয়া মিশুক উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই অসুস্থ বাবার পরিবর্তে মিশুক চালাতে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় পরদিন ৬ জুলাই পরিবারের পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
একই দিন আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ ওয়ালি উল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হারুন রশিদ বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন রুট পর্যালোচনা করে গত ২ আগস্ট সোনারগাঁ এলাকা থেকে আওলাদ হোসেন (২৬) ও শাহিন (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বাড়ি থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মুঠোফোন ও বাংলালিংকের একটি সিম উদ্ধার করা হয়। পরদিন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুকটিও উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনসহ ৪ থেকে ৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। চক্রটি বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে পরিকল্পিতভাবে মিশুক ভাড়া নেয়। পরে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার পর ফেরার পথে গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় চালক ওয়ালি উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
পরে তাঁর মিশুক ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। তদন্তে জানা যায়, ছিনতাই করা মিশুকটি পরবর্তী সময়ে ভবেরচর এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

