Next Narayanganj

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬
শনিবার- ১২, সেপ্টে, ২০২৬

গ্যাসের আগুনে পুড়ে বন্দরে নিভে গেল একটি পুরো পরিবারের প্রাণ

admin@nextnarayanganj.com
বন্দর প্রতিনিধি
2 Min Read
একটি দুর্ঘটনা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কেড়ে নিল একই পরিবারের তিনটি প্রাণ। ছবি- সংগৃহীত।

স্বজনদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে নিভে গেল একটি পরিবারের সব আলো। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যই আর বেঁচে নেই। আট বছরের শিশু মারুফের পর মারা গেলেন মা বিউটি। সবশেষ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাবা মাইদুল (২৪)।

এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে মারা যায় মাইদুল ও বিউটির ৮ বছরের সন্তান মারুফ। এরপর সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে মৃত্যু হয় বিউটির (২৪)। আর মঙ্গলবার ভোরে পরিবারের শেষ সদস্য হিসেবে মাইদুলও মারা যান।

মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও তাদের ছোট ছেলে মারুফ দগ্ধ হয়।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, আগুনে শিশু মারুফের শরীরের ৯০ শতাংশ, মাইদুলের ৮৫ শতাংশ এবং বিউটির ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শনিবার দুপুরে হেরে যায় ছোট্ট মারুফ। ছেলেকে হারানোর দুই দিনের মাথায় সোমবার সকালে মারা যান মা বিউটি। আর স্ত্রী-সন্তানকে হারানোর পর মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মাইদুল।

একটি দুর্ঘটনা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কেড়ে নিল একই পরিবারের তিনটি প্রাণ। রেখে গেল শুধু স্বজনদের জন্য গভীর শোক আর এক নির্মম স্মৃতি।

নিহত তিনজনই নাটোর জেলার বাসিন্দা। নারায়ণগঞ্জে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন মাইদুল। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জে এসে শেষ পর্যন্ত আর আপনজনদের কাছে ফিরতে পারলেন না পরিবারের কেউই।

Share This Article