Next Narayanganj

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬
রবিবার- ১৩, সেপ্টে, ২০২৬

তোলারাম কলেজে দফায় দফায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অনেকে

admin@nextnarayanganj.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read
উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়। ছবি- সংগৃহীত।

সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে এক সংবাদকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এই দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ শুরু হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান। পরে, দেড় ঘন্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে, তাদের জখম মারাত্মক নয়।

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।

এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে আল্লামা ইকবাল রোড (কলেজ রোড) ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বলেন, “তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।”

তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত। তাদের সংগঠনের আরো অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।

তিনি বলেন, “তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন ও রবিনসহ কয়েকজনকে ওরা মেরেছে।”

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি জানিয়ে জেলা পুলিশের ডিবি প্রধান হাসিনুজ্জামান। তিনি বলেন, “তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।”

সংঘর্ষের ঘটনার পর বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত তোলারাম কলেজের ‘শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস’ বন্ধের ঘোষণা দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ও হোস্টেল সুপারের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিকেল চারটার মধ্যে এই ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে, কলেজের পাশে ‘ছাত্রী নিবাসের’ ছাত্রীদেরও হল গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। হলের এক শিক্ষার্থী মুঠোফোনে জানান, নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রীরা পড়াশোনা ও টিউশনির জন্য রাত আটটা পর্যন্ত বাইরে থাকতে পারেন। কিন্তু সংঘর্ষের ঘটনার পর হল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বের না হওয়ার জন্য হল সুপার দারোয়ানকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

Share This Article