Next Narayanganj

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬
শনিবার- ১২, সেপ্টে, ২০২৬

সোনারগাঁয়ে দুই বিএনপি নেতার অনুসারীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

admin@nextnarayanganj.com
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
3 Min Read
ছবি- সংগৃহীত।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য ও নেতৃত্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল সম্পর্কে আপন দুই ভাই। দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ও নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে এলাকায় একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বুধবারের সংঘর্ষে আব্দুর রউফের অনুসারী আবুবক্কর সিদ্দিক, মফিজুল ইসলাম, ইয়ানবী, বাবুল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুল জলিলের অনুসারী সবুর খান ও আব্দুল লতিফসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই ভাইয়ের বিরোধ দীর্ঘদিনের। অতীতেও এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সেগুলো বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তারা।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
আব্দুর রউফের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন এর আগেও তাঁর অনুসারীদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে। প্রায় দুই মাস পর বুধবার তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ও অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল জলিল বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর এক অনুসারীর ওপর হামলা করা হয়। পরে তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। আশপাশের লোকজনের চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কোনো তৃতীয় পক্ষ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share This Article