ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং জনপ্রিয় তারকা সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানের বোন সাবা পাতৌদি। পুরো পরিবার রাজকীয় গ্ল্যামার ও রূপালী পর্দার আলোয় ঝলমল করলেও সাবা বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও শান্ত এক জীবনধারা। তবে রাজপরিবার ও বিনোদন জগতের এত বড় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি এখনো অবিবাহিত, সে বিষয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তিনি।
নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদীর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে না করার আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন ৪৯ বছর বয়সী এই পাতৌদি কন্যা।
সাবা জানান, জীবনে তাঁর কোনো প্রথম প্রেমিক ছিল না। ১৮ বা ১৯ বছর বয়স থেকেই তাঁর কাছে একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। ১৯ বছর বয়সে কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের পাত্রের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সেই বয়সে মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় শেষ পর্যন্ত বিয়েটি আর হয়নি।
পরবর্তী সময়ে বিয়ের ইচ্ছে থাকলেও মনের মতো পাত্র খুঁজে পাননি বলে জানান সাবা। আর এর মূল কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন তাঁর প্রয়াত বাবা এবং ভারতের সাবেক সফল ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদির ব্যক্তিত্বকে।
বাবার স্মৃতির কথা স্মরণ করে সাবা বলেন, “আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের, অত্যন্ত নম্র ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তিনি আমাকে স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছেন। আমি হুবহু বাবার মতো কাউকে খুঁজছিলাম না, কিন্তু বাবার যে ব্যক্তিত্ব ও গভীরতা ছিল—সেই মাপের কাউকে আমি খুঁজে পাইনি।”
কথা প্রসঙ্গে বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে সাবা বলেন, “তাপসী একবার বলেছিলেন, ‘আমার কোনো ছেলের প্রয়োজন নেই, আমার প্রয়োজন একজন দায়িত্বশীল পুরুষ’। আমি এই কথাটির সঙ্গে পুরোপুরি একমত। ঠিক সেই মনের মতো বা সেই উচ্চতার সঙ্গী না পাওয়ার কারণেই আর বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়ে ওঠেনি।”
গ্ল্যামার জগৎ এড়িয়ে নিজের স্বতন্ত্র পথ বেছে নেওয়া সাবা পেশায় একজন সফল জুয়েলারি ডিজাইনার। পাশাপাশি তিনি একজন ট্যারোট কার্ড রিডার ও আধ্যাত্মিক হিলার। এছাড়া ভোপালের রাজকীয় ট্রাস্ট ‘রয়েল অ্যান্ডোমেন্ট ট্রাস্ট’-এর প্রধান তত্ত্বাবধায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে সামলাচ্ছেন তিনি।

